দুইয়ে পক্ষ
তুষারকান্তি রায়
যদি আমাকে দ্যাখো তুমি উদাসী ;
ফিরে যেওনা তুমি, দ্যাখো ;
অপেক্ষার বাইরে কেমন কৌতূহল থমকে আছে !
সুবর্ণরেখা জুড়ে নুয়ে আছে পাতা, সুদীর্ঘ
শ্রাবণের মেঘ বরাবর শিস বাজিয়ে
নেচে বেড়াচ্ছে শব্দচিল; নিরিবিলি কিছু
ভেজা ধুলোর টানটান স্বরলিপি।
আমি তন্নতন্ন করে খুঁজে বেড়াচ্ছি কারণ; আর
অকারণে বেড়িয়ে আসছি সম্ভাবনার বাইরে,
আমার আষ্টেপৃষ্ঠে এখন
উপমাময় সর্বনাম !
তুমি কী সত্যিই ভুলে গ্যাছো ! না কী
ইচ্ছাকৃত ফেলে গ্যাছো এইসব শালিক- বুলবুলি !
মিষ্টি প্রেমিকার মতো জলে পা ফেলে ফেলে
সন্ধ্যার দিকে এগিয়ে যাওয়া
এমন জলজ বিকেল !
-------------
চক্রব্যূহ
আজকাল কিছু ভালো লাগেনা আমার!
ভেতরে ভেতরে বিতস্তার বিস্তার খেলা করে ,
ভেসে আসে পুরুরাজের কণ্ঠ . . .
মাতা সুভদ্রার কথা মনে পড়ে, সংশপ্তকের
ডাকে ঘর- বাড়ি ছেড়ে বাবা
চলে যাচ্ছেন রণক্ষেত্রে !
তোমার আনন্দ এখনো আমার বুকে
ফিসফিস করে উত্তরা !
মনে পড়ে ছোটবেলার যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা ,
প্রেম – ঘৃণা – ভালোবাসা , তোমার
পুতুলনাচের এলোপাথারি কথা ;
অথচ আমি যুদ্ধক্ষেত্র্রে তূণীর সাজিয়ে
সপ্তরথীর ব্যুহে প্রবেশ করে চলেছি . . .
চারিদিকে জ্বলছে আলো , মায়ার খেলা ,
গন্ধপুষ্প, নূপুর নিক্কন , পৃথিবীর
সমস্ত স্কুলের মাঠে ‘কদম কদম বড়ায়ে যা।’
আর সেই থেকে
মহামান্য সজ্ঞয় জন্মান্ধ রাজার কানে কানে
ধার্মিক ও নিষ্ঠাবান মানুষের
কবিতা বলে চলেছেন . . .
------------------
পলক
নেটওয়ার্কের বাইরে এক অলৌকিক নীরবতা ।
ভাবনা থেকে ক্রমাগত বেরিয়ে যাচ্ছে
তিস্তা – তোর্সার তুলকালাম , জলঙ্গির জঙ্গল,
রোগা জনপদ , হাঁটাপথের কথোপকথন
আর মৃদু এলাচের ঘ্রান!
চোখের জলের মতো এথনিক প্রচ্ছদের
ভেতর পাতা ওলটাচ্ছে আমাদের
সেইসব লুকোচুরির আহ্লাদ ,
ঘণ্টাঘরের ফেংশুই।
আমি রাজাভাতখাওয়া বন- বাংলোর
বারান্দা থেকে পাহাড় দেখার সুত্র ধরে
দশ ডিজিটের সেই ম্যাজিক সংখ্যা খুঁজছি
যার কানে নকল সেমিকোলন ; আর
গলায় অজস্র জোনাকির
জীবন্ত পেনডেন্ট ঝুলছিলো
---------------
বুনন
ঘুম আর ঘুমের তন্দ্রা থেকে
বেরিয়ে আসা আলোয় দেখা যাচ্ছে ঘর ।
তুমি ঘুমচ্ছো ; তোমার বুকের ভেতর জেগে উঠছে
শান্ত কোলাহল ;
রাতের তারা আর শহরতলির আলো ঘুমিয়ে পড়েছে
ভাবনার দিকে হেঁটে যেতে যেতে
অনর্গল জাল বুনছে গল্প ; আর
গল্পের বাইরের পাতাবাহার
বিবর্ণ সেতুগুলো ভেসে উঠছে
ক্ষণে ক্ষণে মনে পড়ছে
কথার পাঁকে জড়িয়ে থাকা রাস্তার গান,
শেষ লাইনের কোয়েস্ট, গ্লোবাল দেশীর ক্যানভাস,
প্রতীক্ষার সাইকেল . . .
জ্বলে উঠবার আগেই নিভে যাচ্ছে কথার বারুদ
------------------
নিজস্বী
সহজে চিনে নেবার এইসব শব্দের
গন্ধমাখা গাছ; আর
গাছের প্রশ্রয়ে পাতাদের ফাঁকে ফাঁকে
পড়ে থাকা পাপড়ির নীরব লুটোপুটি ;
বেহালা বরাবর বয়ে আসা
চৌষট্টিকলার রব সাজো সাজো ;
এদিকে বসন্ত মুকুলের গদ্য- সমগ্র হাওয়া বদল করে
সেপ্টেম্বরের মেলায় দাগ- খতিয়ান
হারিয়ে নেমে যাচ্ছে ভাবনার বাইরে !
এবং অচেনা লহরা মুখস্থ করতে করতে ফুটে উঠছে অকাল বোধন !
আমি ভাঙা সাইকেল নিয়ে
বাড়ি খুঁজে না পাওয়া আইবুড়ো বনমালী সেজে
নেমত্তন্নের সন্ধানে চলেছি ;
রাজার মেজাজে
তুষারকান্তি রায়
যদি আমাকে দ্যাখো তুমি উদাসী ;
ফিরে যেওনা তুমি, দ্যাখো ;
অপেক্ষার বাইরে কেমন কৌতূহল থমকে আছে !
সুবর্ণরেখা জুড়ে নুয়ে আছে পাতা, সুদীর্ঘ
শ্রাবণের মেঘ বরাবর শিস বাজিয়ে
নেচে বেড়াচ্ছে শব্দচিল; নিরিবিলি কিছু
ভেজা ধুলোর টানটান স্বরলিপি।
আমি তন্নতন্ন করে খুঁজে বেড়াচ্ছি কারণ; আর
অকারণে বেড়িয়ে আসছি সম্ভাবনার বাইরে,
আমার আষ্টেপৃষ্ঠে এখন
উপমাময় সর্বনাম !
তুমি কী সত্যিই ভুলে গ্যাছো ! না কী
ইচ্ছাকৃত ফেলে গ্যাছো এইসব শালিক- বুলবুলি !
মিষ্টি প্রেমিকার মতো জলে পা ফেলে ফেলে
সন্ধ্যার দিকে এগিয়ে যাওয়া
এমন জলজ বিকেল !
-------------
চক্রব্যূহ
আজকাল কিছু ভালো লাগেনা আমার!
ভেতরে ভেতরে বিতস্তার বিস্তার খেলা করে ,
ভেসে আসে পুরুরাজের কণ্ঠ . . .
মাতা সুভদ্রার কথা মনে পড়ে, সংশপ্তকের
ডাকে ঘর- বাড়ি ছেড়ে বাবা
চলে যাচ্ছেন রণক্ষেত্রে !
তোমার আনন্দ এখনো আমার বুকে
ফিসফিস করে উত্তরা !
মনে পড়ে ছোটবেলার যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা ,
প্রেম – ঘৃণা – ভালোবাসা , তোমার
পুতুলনাচের এলোপাথারি কথা ;
অথচ আমি যুদ্ধক্ষেত্র্রে তূণীর সাজিয়ে
সপ্তরথীর ব্যুহে প্রবেশ করে চলেছি . . .
চারিদিকে জ্বলছে আলো , মায়ার খেলা ,
গন্ধপুষ্প, নূপুর নিক্কন , পৃথিবীর
সমস্ত স্কুলের মাঠে ‘কদম কদম বড়ায়ে যা।’
আর সেই থেকে
মহামান্য সজ্ঞয় জন্মান্ধ রাজার কানে কানে
ধার্মিক ও নিষ্ঠাবান মানুষের
কবিতা বলে চলেছেন . . .
------------------
পলক
নেটওয়ার্কের বাইরে এক অলৌকিক নীরবতা ।
ভাবনা থেকে ক্রমাগত বেরিয়ে যাচ্ছে
তিস্তা – তোর্সার তুলকালাম , জলঙ্গির জঙ্গল,
রোগা জনপদ , হাঁটাপথের কথোপকথন
আর মৃদু এলাচের ঘ্রান!
চোখের জলের মতো এথনিক প্রচ্ছদের
ভেতর পাতা ওলটাচ্ছে আমাদের
সেইসব লুকোচুরির আহ্লাদ ,
ঘণ্টাঘরের ফেংশুই।
আমি রাজাভাতখাওয়া বন- বাংলোর
বারান্দা থেকে পাহাড় দেখার সুত্র ধরে
দশ ডিজিটের সেই ম্যাজিক সংখ্যা খুঁজছি
যার কানে নকল সেমিকোলন ; আর
গলায় অজস্র জোনাকির
জীবন্ত পেনডেন্ট ঝুলছিলো
---------------
বুনন
ঘুম আর ঘুমের তন্দ্রা থেকে
বেরিয়ে আসা আলোয় দেখা যাচ্ছে ঘর ।
তুমি ঘুমচ্ছো ; তোমার বুকের ভেতর জেগে উঠছে
শান্ত কোলাহল ;
রাতের তারা আর শহরতলির আলো ঘুমিয়ে পড়েছে
ভাবনার দিকে হেঁটে যেতে যেতে
অনর্গল জাল বুনছে গল্প ; আর
গল্পের বাইরের পাতাবাহার
বিবর্ণ সেতুগুলো ভেসে উঠছে
ক্ষণে ক্ষণে মনে পড়ছে
কথার পাঁকে জড়িয়ে থাকা রাস্তার গান,
শেষ লাইনের কোয়েস্ট, গ্লোবাল দেশীর ক্যানভাস,
প্রতীক্ষার সাইকেল . . .
জ্বলে উঠবার আগেই নিভে যাচ্ছে কথার বারুদ
------------------
নিজস্বী
সহজে চিনে নেবার এইসব শব্দের
গন্ধমাখা গাছ; আর
গাছের প্রশ্রয়ে পাতাদের ফাঁকে ফাঁকে
পড়ে থাকা পাপড়ির নীরব লুটোপুটি ;
বেহালা বরাবর বয়ে আসা
চৌষট্টিকলার রব সাজো সাজো ;
এদিকে বসন্ত মুকুলের গদ্য- সমগ্র হাওয়া বদল করে
সেপ্টেম্বরের মেলায় দাগ- খতিয়ান
হারিয়ে নেমে যাচ্ছে ভাবনার বাইরে !
এবং অচেনা লহরা মুখস্থ করতে করতে ফুটে উঠছে অকাল বোধন !
আমি ভাঙা সাইকেল নিয়ে
বাড়ি খুঁজে না পাওয়া আইবুড়ো বনমালী সেজে
নেমত্তন্নের সন্ধানে চলেছি ;
রাজার মেজাজে

প্রত্যেকটি কবিতা অসাধারণ তুষার দা।
ReplyDelete