
কানভাঙা অন্ধ দোতারা
দেবহূতি সরকার
১
যে সুরের ওপর জমেছে ধূলারাশি
মাঝে মাঝে পান করি তাকে।
ধুলোয় নেশা বাড়ে।
গানের চরণ গুলি মনে পড়ে যায়।
হঠাৎ হাওয়ায় ভেসে আসে
আনন্দধারা বহিছে ভুবনে।
আপনমনে বসে থাকাগুলিকে –
ডাক দিয়েছিলো যারা-
তাদের কথা মনে পড়ে।
সুরে নয়, আমার কথায় নেশা বাড়ে।
মাথা ঝিম।
তখন আমি পান করি সুর –
যে সুরের ধুলো আমি মুছতে পারি না কিছুতেই।
২
যে দোতারা
আমি বয়ে এনেছিলাম তোর জন্য –
তার এক কান জখম।
জখম কানে বেসুর বেজে ওঠে।
তারগুলি নিরুপায় আঙুলে আঘাত করে কেবল।
আঘাতকে ভালোবেসে, আমি ভুলে যাই-
আমরা আসলে সুরের সাধনাই করতে চেয়েছিলাম
সেইসব শীতল দিনে রাতে।
৩
গীটারকে প্রেমিকা ভেবে কোলে বসাতে তুমি।
প্রেমিককে কোলে নেওয়ার কথা,
আমি কখনো ভাবিনি।
গীটারের দেহ তাই কাঠ –
আমার এ কাষ্ঠ শরীরে।
৪
আহা সুর!
ভরাট গলায় দানা বাঁধে।
সুরের জন্য আমি আসন বুনে দিই।
সে আসনে তোমাকে বসাই।
সুরের কাছে পৌঁছতে পারি না যে,
সে কথা শুধু তোমাকে বলি না।
৫
টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে
সুর চুঁয়ে পড়ে।
আমার নেশার্ত লাগে।
আকণ্ঠ পিপাসা নিয়ে
আমি সুরের কাছে পৌঁছতে পারি না বলেই,
কথার কাছে যাই,
তোমার কাছে যাই উন্মাদিনীপ্রায়,
আর মাথা খুঁড়ে মরি
তোমার কাছেও পৌঁছতে পারি না কখনোই।
৬
সেই ছেলেবেলায়,
সুর ছেড়ে গেলো আমাকে।
তারপর ভর করল- আমার সমস্ত প্রেমিক
সমস্ত প্রতিপক্ষকে।
সবাই ভাবে সুরের প্রেমিকা বলে
আমি তাদেরকে শত্রু ভাবি।
আসলে,
‘সুরই আমার আজন্ম শত্তুর’
এই স্বপ্নে পাওয়া কথাটি আমি,
পড়শীদের বোঝাতে পারি না।