অপরিচয়
হঠাৎ বৃষ্টির শেষে, শহরের বিশ্রী ঘেরাটোপে
গাড়ির জানলায় টোকা দিলো এক ভ্রমরকালো ছেলে
হাতে গোলাপের তোড়া।
অর্ধপ্রস্ফুটিত একগুচ্ছ গোলাপের পাশে ছেলেটির মুখ
উগ্র নোংরা আর বিশুদ্ধ কুৎসিত লাগে।
শুধু বালকের অপলক চোখ, তার সকরুণ চোখের আলোয়
গোলাপের পাপড়িগুলি ম্রিয়মান
ঝরে পড়ে আমার গভীরে।...
হাসি
হুইলচেয়ারে বসে হাসলে
ঝিলমিল করে উঠলো কাঞ্চনজঙ্ঘা।
এটা দক্ষিণভারতের কোনো হাসপাতাল নয়,
তুমিও নিছক কোনো শিশু নও
অসুখ নামের কোনো চিরায়ত পাতা
উড়ে এসে পড়েনি এখানে।
আমি দেখছি শৈশবের সিদ্ধার্থ
গৌতমবুদ্ধ হবার আগে একটু হাসলেন
বরফের পাহাড়ে রোদ্দুর খিলখিল করে উঠলো।...
শ্রাবণ
দুটি মানুষ গল্প করছে।
আর তাদের শরীর বেয়ে শিশু সন্তানের আদরের মতো
গড়িয়ে পড়ছে বৃষ্টি।
পাশে সেগুনগাছের বড়ো একটি পাতার নীচে একটি পাখি
ডাকছে। আকাশের অশ্রুকে
সে ডেকে নিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে
নাগরিক ঘাসের উঠোনে।
পাখির ডাকের অন্যমনস্কতায়, দুপোর আর বিকেলের মাঝে
থমকে থমকে যাচ্ছে বৃষ্টির বিশ্বাস অবিশ্বাস
এই সমগ্র দৃশ্যের ভিতর, সারাদিন ধরেই
পুনর্নির্মিত হয়েছে রবি ঠাকুরের প্রকৃতি পর্যায়ের গান।...
পাঠক
সুদীর্ঘদিন ধরে তোমার কথা ভেবেই
কিছু সামান্য লিখেছি।
তোমার সঙ্গে দেখা হয়না সুদীর্ঘকাল।
তবু, ভেবেছি আর ক্বচিৎ শিউরে উঠেছি
এসব অকিঞ্চতকর তুমি স্পর্শ করবে বলে।
তোমাকে ছুঁয়েছে এই লেখা?
অপার এই অপেক্ষার পাশে ফুটে উঠেছে গ্রামের লাল জবা
ঝরে পড়েছে নাগরিক জারুল।
অবশেষে, যেদিন তোমার সঙ্গে সত্যি সত্যি দেখা
সেদিন, কবিতা থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমি।...
অনন্তস্রোত
পাতাটি নীরব।
শরীরে বয়ে চলেছে অনন্তস্রোত
মাঝেমাঝে বৃষ্টি এসে
বিষণ্ণ পিয়ানো বাজায়।
পাতাটি নতুন করে নিজেকে সাজায়
সে কি জানে?
কিছুই থাকেনা। অবশেষে
অঙ্কন: ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়

No comments:
Post a Comment