পাঁচটি কবিতা
অনিমেষ মণ্ডল
ভাঙা বাড়ি
অনিমেষ মণ্ডল
ভাঙা বাড়ি
ভাঙা বাড়িটার দেয়াল ফুঁড়ে
দু একটা অশ্বত্থ চারা
রৌদ্রের দিকে উঠে যায়
তারা কি ইশারায় কোনও কথা বলে
মেঘের বান্ধবী এসে চিঠি দিয়ে যায়
কি কথা সে বলে যেতে চায়
অলৌকিক হাওয়ায় হাওয়ায় ...
চলাচল
পাতারা ভেসে যায় অলস হাওয়ায়
পাতারা কোথায় যায়
ভূমি স্পর্শ করার পর
পাতারা কি মরে যায়
নাকি তার আত্মা
মাটির গর্ভে চারিত হতে হতে
পুঁতে দেয় বীজ
একটি আবহমানের চলাচল
ভ্রূণ হতে চায় ...
চিলেকোঠা
একটি রাত্রির জন্যে অপেক্ষায় আছি
কতবার তারাদল নিভে গেল
আবহমান আঁধারের গর্ভে
আর জ্বলে উঠল পুনঃ পুনঃ
এ সময় না লেখা কবিতাগুলি
লিখে ফেলছি পাতার পর পাতা
আর মহাশূন্যে পায়চারি করতে করতে
খুঁজে চলেছি
চিলেকোঠার ঘরে
আমার হারানো দুপুর .
জাগতিক
সে কেবল একা একা হেঁটে যায়
অস্তগামী সূর্যের ঢেউ
যেমন পূব থেকে পশ্চিমে
শাশ্বত রাতের হৃদয়
জেগে থাকে বুকের উপর
যদিও সে জেনে গেছে
সব ফুল একদিন ঝরে যাবে
পথে....পথে......
আলোও বেঁকে যাবে
কৃষ্ণগহ্বরের দিকে।
সন্ন্যাস
আমি তবে সন্ন্যাস নেব
একটি অলৌকিক জীবন কাটাব
শুকনো পাতার মালা গেঁথে
রেখে যাব বিশুদ্ধ উচ্চারণে
সে যদি আসে
তাকে বোলো
ফুল নয়,পাতাই আমার অতি প্রিয়
কোনোদিন মনে পড়লে
গান্ধর্ব মন্ত্র তাকে দিও...

No comments:
Post a Comment