চারটি কবিতা
রাজদীপ রায়
এক
মাটি ভেদ করে ওঠা কাশ গুচ্ছ দেখে নিচ্ছে
গত বছরের ফেলে আসা মেরুদণ্ড
ধরগুলি আহ্লাদে লাফাচ্ছে, শুধু মুণ্ডুগুলো নেই।
অতি ভদ্র শান্ত সূর্যাস্তের মতো
আরো একবার কান্না এসে ঘিরে ধরল আমাদের
তোমার শরীরভস্ম থেকে থেকে খুঁজে পাওয়া মেরুদণ্ড
এভাবে গোলাপ রূপ পেল....
দুই
জখন আকাশ ভেঙে কান্না হয়ে যায়
বাষ্প লাগে!
দু-দন্ড লেখার ছোঁয়া পেলে
তুমি ঝুঁকে পড়ো কোনো নির্জন সরাইখানায়
যেখানে অসুস্থ বাষ্পগুলি পুনর্বার জমাট বাঁধে।
সরু সরু পা ফেলে দুপুর অব্দি হেঁটে আসি
সামান্য বিকেলটুকু কখন ডানায় খোয়া যায়...
তিন
বিকেলের উজ্জ্বল আভায় বাগবাজার ঘাট
সারদা মা একটু নেমে কপালে হাত রেখেছেন
দিগন্ত মসৃণ করে উঠে আসছে রামকৃষ্ণ আলো
হাজার বছর পর ফেরিঘাটে বল খুঁজতে এসে
বালক বিস্ময়ে দেখছে উইটিবি ভেঙে
নগর পরিভ্রমণে বেরিয়ে গিয়েছেন বুদ্ধদেব
বাড়ি বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞেস করছেন:
এই মেরুদণ্ড নিয়ে তুমি কী কী করবে?
চার
যে শহরে মৃতদেহ সৎকার হয় না
সেখানকার পৌরসভায়
সতীচ্ছেদ রেখে পালিয়ে গেলাম
কত অজ পাড়া গাঁ বিস্তৃত জনপদ
পেরিয়ে পেরিয়ে পা দুটো বাগান হয়ে গেল...
এখন কাঁটার মত জংধরা পেরেকের গন্ধ
আমাকে আশ্চর্য করে এই পরিক্রমায়
অন্ধের মতোই, আর এক অন্ধের কাছে
বাঁধা আছে জ্ঞানচক্ষু দুটি....

No comments:
Post a Comment